জাতীয় নির্বাচনের আগে সংশোধনীতে উল্টো ক্ষমতা কমল ইসির
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
অনিয়ম–বল প্রয়োগের মতো ঘটনায় ভোট বন্ধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ক্ষমতা কমানো হলো।
০৫/০৭/২০২৩ ইং তারিখ মঙ্গলবার সংসদে জাতীয় নির্বাচনসংক্রান্ত আইন বা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) এ–সংক্রান্ত সংশোধনী সংসদে পাস হয়।
২০২৩ সালের শেষ কিংবা ২০২৪ সালের
শুরুতে বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা
রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ সংশোধনী আনায়ন করা হয়েছে।
![]() |
| জাতীয় নির্বাচনের আগে সংশোধনীতে উল্টো ক্ষমতা কমল ইসির |
ভোট গ্রহণের আগে ইসি চাইলেও
এখন আর ভোট বন্ধ করতে পারবে না। এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা করার পর
কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও পুরো আসনের (সংসদীয়) ফলাফল স্থগিত বা ভোট বাতিল করতে
পারবে না ইসি। শুধু যেসব ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ থাকবে, সেসব ভোটকেন্দ্রের
ফলাফল চাইলে স্থগিত করতে পারবে ইসি।
আইনে ‘ইলেকশন’ শব্দের স্থলে
‘পোলিং’ শব্দটা এনে বড় পার্থক্য করা হয়েছে। ইলেকশন বলতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
থেকে শুরু করে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত বোঝায়। সেটা বাদ দিয়ে ‘পোলিং’ যুক্ত করা হয়েছে।
এর অর্থ শুধু ভোটের দিন।
এই ছাড়াও আগের দিন পর্যন্ত ঋণ
পরিশোধের বিধানের মাধ্যমে ঋণখেলাপিকে নির্বাচনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আরপিও যে সকল সংশোধনী এসেছেঃ
১) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১ (এ) উপধারায় বলা আছে, নির্বাচন কমিশন যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে নির্বাচনে বল প্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, চাপ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিরাজমান অপকর্মের কারণে যুক্তিযুক্ত, ন্যায়সংগত এবং আইনানুগভাবে নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না, তাহলে যেকোনো ভোটকেন্দ্র বা ক্ষেত্রমতো সম্পূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের যেকোনো পর্যায়ে ভোট গ্রহণসহ নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে।
সংশোধনীতে আরপিওর ৯১ ধারার (এ) উপধারায় ‘ইলেকশন’ শব্দের বদলে ‘পোলিং’ শব্দ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ইলেকশন’ শব্দ দিয়ে পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়া বোঝায়। অর্থাৎ তফসিল ঘোষণা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সময়টা হলো ‘ইলেকশন’। আর ‘পোলিং’ হলো শুধু ভোটের দিন। ‘ইলেকশন’ শব্দটি থাকলে ভোটের আগেও পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইসি ভোট বন্ধ করতে পারত। কিন্তু সংশোধনী পাসের কারণে ইসির ক্ষমতা খর্ব হলো।
২) যেসব ভোটকেন্দ্রে (এক বা একাধিক) এসব অভিযোগ থাকবে, ইসি শুধু সেসব কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল স্থগিত বা বাতিল করে প্রয়োজনে নতুন নির্বাচন করতে পারবে।
৩) নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা গণমাধ্যমকর্মী এবং পর্যবেক্ষকদের কাজে কেউ বাধা দিলে তাঁকে শাস্তির আওতায় আনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
৪) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণ এবং টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আগে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ন্যূনতম সাত দিন আগে এসব ঋণ পরিশোধ করতে হতো।
অ্যাডভোকেট আবদুর রব পারভেজ রবি
লেখক ও কলামিস্ট।

No comments