ঐতিহাসিক পলাশী ট্র্যাজেডি ও বাঙালী, -মোঃ আবদুর রব পারভেজ রবি
ঐতিহাসিক পলাশী ট্র্যাজেডি ও বাঙালী।
-মোঃ আবদুর রব পারভেজ রবি
২৬৩ বছর অতিবাহিত হলেও নবাব সিরাজুদ্দৌলা প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, পলাশীর আমবাগানের ট্র্যাজেডি ও বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরদের ষড়যন্ত্রের কথা আদো কেউ ভুলেনি।

সেই দিন পলাশীর আমবাগানে ইংরেজদের সাথে এক যুদ্ধে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে অস্তমিত হয় বাংলার স্বাধীনতার শেষ সূর্য। মাত্র সল্পসংখ্যক সৈন্য নিয়ে রবার্ট ক্লাইভ পরাজিত করেছিলেন নবাবের এক লক্ষ সেনা থাকা সত্ত্বেও। সেদিন ক্লাইভের সল্পসংখ্যক সৈন্যের সাথে যোগ হয়েছিলে বিশ্বাসঘাতকেরা ও তাদের ষড়যন্ত্র। নবাবের পরাজয়ের ফলে পরাজিত হয়েছিল ২০০ বছরের জন্য স্বাধীনতার সূর্য। পরাজয়ের পর নবাবের বেদনাদায়ক মৃত্যু হলেও মীর জাফরের মত যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি।
‘মুর্শিদাবাদ কাহিনী’ তে ইতিহাসবিদ নিখিল নাথ রায় লিখেছেন, নবাবের সেনাবাহিনীর তুলনায় ইংরেজদের সেনা সংখ্যা ছিল অনেক কম। সেখানে বিশ্বাসঘাতকতা না হলে নবাবের বিজয় ছিল সুনিশ্চিত। এবং ‘বাংলাদেশের সন্ধানে’ গ্রন্থে ইতিহাসবিদ মোবাশ্বের আলী লিখেছেন, নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রায় এক লাখ সেনা নিয়ে ক্লাইভের স্বল্পসংখ্যক সেনার কাছে পরাজিত হন মীর জাফরের মোনাফেকিতে।
বাঙালী হিসাবেও আমরা বড়ই স্বার্থপর সেদিন হাজার হাজার দর্শক, খানিকটা দূরে দাড়িয়ে নিজেদে হার দেখেছিলেন, যদি সকলে গর্জে উঠে কিংবা একটি করে পাথর নিক্ষেপ করে, তাতেই ক্লাইভ ও তার সেনারা পালানোর জায়গা খুঁজে পেতোনা।
অতি ঘৃণ্য মীর জাফরের কুষ্ঠরোগে মত্যু হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ট্র্যাজেডি এই যে, মীর জাফররা বারবার গোর থেকে উঠে আসে। আমরা আজও মীর জাফরদের মত নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেরা, যড়যন্ত্র ও মুনাফেকি হতে বের হয়ে আসতে পারিনি। যে কারণে আজও পদে পদে সহ্য করতে হচ্ছে পরাজয় আর লাঞ্ছনা।
লেখক- মোঃ আবদুর রব পারভেজ রবি
এলএল.বি(অনার্স), এলএল.এম(জবি), পিজিডি(ঢাবি)

No comments